‘কালো সোনা’খ্যাত পেঁয়াজবীজ উৎপাদনে দেশের শীর্ষ জেলা ফরিদপুর। দেশের মোট পেঁয়াজবীজ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই হয় এ জেলায়। চলতি বছরও জেলায় ৫০০-৫৫০ কোটি টাকার পেঁয়াজবীজ উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে নিজস্ব খামারে উৎপাদিত বীজ ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বাজারজাত করছেন অনেক কৃষক ও উদ্যোক্তা। এতে বাজারে মানসম্মত বীজ সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।
ফরিদপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় প্রায় ১ হাজার ৮৫৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজবীজ চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রাক্কলিত ৯৬৪ টনের বেশি বীজ উৎপাদনের কথা রয়েছে। মানভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজবীজ ২ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। এ হিসাবে চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে উৎপাদিত বীজের বাজারমূল্য ৫০০-৫৫০ কোটি টাকা।
জেলার অম্বিকাপুরের উদ্যোক্তা শাহীদা বেগমও পেঁয়াজবীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতের সঙ্গে যুক্ত। চলতি বছর তিনি প্রায় ১০০ একর জমিতে পেঁয়াজবীজ আবাদ করে ৪০ টন বীজ উৎপাদন করেছেন। ‘খাঁন বীজ’ ও ‘নকশী কাঁথা’ নামে দুটি ব্র্যান্ডে এসব বীজ বাজারজাত করেন তিনি। প্রতিদিন গড়ে ৩০ মণের বেশি বীজ প্যাকেটজাত করা হয় তার প্রতিষ্ঠানে। এ কাজে যুক্ত রয়েছেন এলাকার নারী শ্রমিকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পেঁয়াজবীজের মান ধরে রাখতে উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত নানা বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। মান ঠিক না থাকলে বাজারজাতেও সমস্যায় পড়তে হয়। ফরিদপুরের বীজের মান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর সুনাম ও চাহিদা রয়েছে।
তবে কাঁচা পেঁয়াজের বাজারদর কমে যাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, পেঁয়াজ চাষে কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে আবাদ কমে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে পেঁয়াজবীজের উৎপাদন ও দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দেশীয় বীজ রফতানির বাজার তৈরিতে সরকারের সহযোগিতা চান তারা।
সম্প্রতি ফরিদপুরের পেঁয়াজবীজ প্রক্রিয়াকরণ কারখানা পরিদর্শন করেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। এ সময় তিনি জানান, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক হিসাব তৈরিতে চাষীদের ‘ডিজিটাল কৃষক কার্ড’ দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদনের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ এবং কোন মৌসুমে কতটুকু পেঁয়াজ চাষ করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে কৃষকদের আগাম ধারণা দেয়া সম্ভব হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিকূলতার মধ্যেও উদ্যোক্তা ও কৃষকদের পরিশ্রমে এবার মানসম্পন্ন পেঁয়াজবীজ উৎপাদিত হয়েছে। বীজের মানোন্নয়ন, উৎপাদন ও সংরক্ষণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগ নিয়মিতভাবে কৃষকদের সহযোগিতা করছে।’
আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ফরিদপুরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, প্রতিকূলতার মাঝেও উদ্যোক্তা ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবারো মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদিত হয়েছে। প্রতিনিয়ত বীজের মানোন্নয়ন ও উৎপাদন এবং সংরক্ষণসংক্রান্তে চাষীদের সমস্যা সমাধানে নিবিড়ভাবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কাজ করা হয়।